প্রচ্ছদ > জাতীয় >

১৫ বছর আগের হত্যা মামলায় বিএনপি নেতা জাকির খানের বিরুদ্ধে চার্জশিট

article-img

রাজধানীর মিরপুরে দেড় দশক আগের একটি হত্যা মামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি জাকির হোসেন খানের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেছেন।
দীর্ঘ ১৫ বছর পর হঠাৎ করে একটি হত্যা মামলায় চার্জশিট দাখিল এবং বিএনপি নেতার বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আদালতের নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২৪ মার্চের একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ২৬ মার্চ মিরপুরে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে মামলাটির আইনি প্রক্রিয়া দৃশ্যত স্থবির ছিল। তবে সব স্থবিরতা ভেঙে গত বৃহস্পতিবার পুলিশ জাকির হোসেন খানের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে। মামলাটিতে এখন পর্যন্ত কোনো বিচারিক নিষ্পত্তি বা রায় হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, দীর্ঘ দেড় দশক পর নতুন কোনো তথ্য বা তদন্তের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই হঠাৎ করে এই চার্জশিট দাখিল করার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
জাকির হোসেন খানের রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ক্যারিয়ার। তার পিতা মরহুম শামসুদ্দিন খান ছিলেন গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। পারিবারিক রাজনৈতিক আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাকির খান ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতৃত্বের পদে আসেন।
রাজনীতির পাশাপাশি তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যবসার সাথে জড়িত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—শামীমা ফ্যাশন, অর্কিড বাজার, চেতনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ভ্যাকেশন লিফটার্স।
পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তাদের এই পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে এবং জাকির খানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একের পর এক মামলা দায়ের করা হতে থাকে। ২০২২ সালে জাকির খানের শারীরিক পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। ওই বছরের ৮ অক্টোবর রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকাকালে তিনি মারাত্মক শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন।
চিকিৎসকের সনদের তথ্য অনুযায়ী, 'কাস্টোডিয়াল টর্চার' বা হেফাজতে নির্যাতনের কারণে তার মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগে। এর ফলে তিনি বর্তমানে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং সম্পূর্ণ হুইলচেয়ার-নির্ভর জীবনযাপন করছেন।
পারিবারিক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, বর্তমানে কোনো মামলায় তার সাজা না হলেও, দীর্ঘ দেড় দশক পর পুরোনো মামলায় চার্জশিট দাখিল এবং শারীরিক নিরাপত্তাহীনতার কারণে জাকির হোসেন খান বর্তমানে বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


আরো খবর